April 20, 2026, 3:16 am

সিদ্ধিরগঞ্জে ‘সোনারগাঁ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে’ অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে হোটেল ব্যবসা, আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ নারায়নগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাংরোডে ‘সোনারগাঁ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’ নামক একটি হোটেলে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বীরদর্পে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন নজরুল নামের এক ব্যবসায়ী, অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে ব্যবসা করে হয়ে গেছেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ ।।

তিতাসের অসাধু কিছু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে নজরুল এই হোটেল ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ।

এতে তিতাসের সেই অসাধু কর্মকর্তারা
প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে ।

জানা যায়, সরকারিভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া নিষিদ্ধ থাকলেও সরকারের সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এখনো গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে একটি সিন্ডিকেট। গ্রাহকদের কাছ থেকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে এসব অপকর্ম। তবে দিন দিন এসব অপকর্ম করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন তিতাসের ওই অসাধু কর্মকর্তারা। তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ থাকার পরেও ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেননা তিতাস কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে সরেজমিনে
ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাংরোডের ‘সোনারগাঁ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে’ গেলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আশার পর নজরুল কিছু প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। সেই প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে তিতাসের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই তার এই হোটেল ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন নজরুল। তিনি অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে হোটেল ব্যবসা চালালেও নজরুলের হয়রানির ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না।

সম্প্রতি তিতাস কর্তৃপক্ষ সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় লোক দেখানো কিছু অভিযান চালিয়ে কিছু জরিমানা করে তাদের অভিযান সমাপ্ত করেন। কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর পুনরায় ওই সব অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার সকল আয়োজন সম্পন্ন করেন সেই কর্মকর্তারা। তবে তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ( তিতাসের অসাধু কর্মকর্তা) যেসব প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে থাকেন সেগুলোতে কোন অভিযান চালাতে দেখা যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ যে গ্যাস সংযোগগুলো রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে তিতাসের ওই অসাধু কর্মকর্তারা তাদের প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ব্যবহার করে প্রতি মাসে মাসোয়ারা নিয়ে যান বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ওজনে কম দেওয়া সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা সহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত এই মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক মালিক নজরুল ইসলাম।।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একধীক স্থানীয় ব্যাক্তি জানান, ‘সোনারগাঁ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের’ মালিক নজরুল শুধু হোটেল নয় তার এই হোটেলের মিষ্টি, দধি, সানাসহ যে সকল মুখরোচক খাবার তৈরি করা হয় সেই কারখানাটি রয়েছে হীরাঝিল এলাকায়। সেই কারখানায়ও নজরুল অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসব অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগের ফলে প্রতি মাসে সরকারকে বিল পরিশোধ করেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেনা বৈধ বাসা বাড়ির মালিকেরা। তাই দ্রুত এসব অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে ‘সোনারগাঁ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের’ মালিক নজরুল বলেন, আমি কোন অবৈধ গ্যাস চালাই না। আমার কারখানায় এক লাইন ও হোটেলে অন্য লাইন। দুই লাইনে কতোগুলো চুলা ব্যবহার করেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি এই প্রতিবেদকে চা খাওয়ার দাওয়াত দেন বলে ফোন দেখে দেন।

বিষয়টি সম্পর্কে তিতাসের নারায়ণগঞ্জ জোন কার্যালয়ের প্রকৌশলী মো: ইমরান জানান, এই বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে এর আগেও অভিযোগ এসেছে। অতি শীঘ্রই আমরা ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবো। ##

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা